রিয়েলিটি শোঃ দেখা ও দেখানোর অবলোকনকাম

রাষ্ট্রের পতন হয় সশব্দে, কিন্তু নীতি-নৈতিকতার মৃত্যু ঘটে নীরবে, দিনে দিনে। আমাদের সমাজে নীতির মৃত্যু এরকম নিঃশব্দেই হচ্ছে। টেলিভিশনের কিছু কিছু অনুষ্ঠানে তার আভাস মিলছে । মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শিশুদের উটের দৌড়ের জকি করা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে অনেক কথা হয়েছে । টেলিভিশনের মাধ্যমে শিশুদের বিনোদনের জকি করা নিয়ে সরব হওয়া এখনকার জরুরত ।

বিজ্ঞাপনে শিশু, বিনোদনেও শিশু। মনের নাম মহাশয়, যা সওয়াও তা-ই সয়। শিও ও শৈশবের বাণিজ্যিক ব্যবহার হয়তো অনেকেরই চোখ সয়ে গেছে, বিনোদনে ব্যবহারও হয়তো সয়ে যাচ্ছে। যেকোনো চ্যানেলে ১০টি বিজ্ঞাপনের কম পক্ষে সাতটিতেই তারা হাজির। তারা গাড়ি, বাড়ি, টিভি, ফ্রিজ, পানীয়, সাবান হরলিকস, বালতি, বা ঢেউটিনের গুনগান করে ! শিশুদের সবার্থবোধ তেমন থাকেনা। তাই তাদের সরল ও সুন্দর জবানে- অভিনয়ে পণ্যের সুখ্যাতি দেখে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, ব্যবসা সত্য না, মুনাফা সত্য না, পণ্যমুগ্ধ শৈশবই সত্য । অভিভাবকেরা অর্থ পাচ্ছেন, শিশুটিও স্টার হচ্ছে। আর ঘরের শিশুরা ভাবছে, ওই শিশুটির মতো আমারও খ্যাতি দরকার, টাকা দরকার । আর দরকার ওই সব বিজ্ঞাপিত পণ্য । মা-বাবারা তাদের আবদারে হার মানেন, বাজারে ছোটেন। শিশুরাও হয়ে যায় ওই সব পণ্যের স্থায়ী ক্রেতা । পণ্যায়িত সমাজে একটি নতুন শিশুর জন্ম তাই একজন সম্ভাব্য ক্রেতারও জন্ম । এ যুগে মিডিয়াই এখন আমাদের চোখ-কান-মন। মায়ের ছেলে বা বাবার মেয়েটি ঘরে শেখে, স্কুলে শেখে, টিভি দেখেও শেখে । কিন্তু কী শেখে আসলে?

ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের নিন্দা হয়, শিশু ও তাদের প্রতি বড়দের কোমল আবেগের বাণিজ্যিক ব্যবহারও অপরাধ । দেশি চ্যানেলগুলো এই পথে নবীন বলেরয়েসয়ে দেখায়। কিন্ত ভারতের হিন্দি চ্যানেলগুলো যে রকম তুখোড় দক্ষতা অর্জন করেছে, তাতে ভাষা ও সীমানা  পেরিয়ে তার ডাক আমাদের ঘরে ঘরে সচিত্র বাজছে। সাম্রাজ্য কেবল ভয় বা লোভ দেখিয়েই তার আধিপত্য ছড়ায় না, আনন্দের পিচ্ছিল পথেও তা ভিন্নতাকে গলিয়ে তরল করে। তারই প্রমাণ বাংলাদেশেও হিন্দি সিরিয়ালের পাশাপাশি শিশুদের নাচ-গানের প্রতিযোগিতার তথা রিয়েলিটি শোর বিপুল জনপ্রিয়তায় । উন্নত প্রযুক্তি আর পুঁজির জোরে এসব চ্যানেলই এখন উপমহাদেশের জনসংস্কৃতিকে প্রভাবিত করছে।  অন্যরা বাধ্য হচ্ছে তাদের অনুকরন করতে । দৃশ্য বা ইমেজের ক্ষমতা এতই সর্বজনীন যে ভিন্ন ভাষা বা সংস্কৃতির তা অন্যাসেই ভেঙ্গে ফেলছে ।

ওইসব অনুষ্ঠান আমাদের নতুন কুড়ির নাচ-গান নয় । ধুমধাড়াক্কা হিন্দি ছবের চটুল গানের সঙ্গে ততোধিক হট নাচ । দূর থেকে দেখলে মনে হবে বুঝি বলিউডি তারকারাই মঞ্চ কাঁপাচ্ছে, দর্শকের মনে ঢেউ তুলছে। সেই পোষাক, সেই বিশেষ ভঙ্গি, সে রকম শরীর চঞ্চল করা কথা ও সুর ।  একটি তিন-চার বছর বয়সী বালিকা অসম্ভব কসরত করে যে নাচটি করে, ফিল্মের দৃশ্যে তা করেছিল স্বল্পবসনা কোনো হার্টথ্রব  নায়িকা । নাক টিপলে দুধ বেরোবে, এমন বয়সী বালক ‘চুম্মা চুম্মা দে দো’ গানের সঙ্গে নাচা কি নিরীহ বিনোদন ? দুটি বালক-বালিকাকে প্রেমঘন গানে নাচানো কি সভ্যতা ? বহুদিনের বহু অনুশীলনে তারা এসব শিখেছে। আর আমরা চোখ ভরে দেখে মন ভরে মজে যাচ্ছি। বিনোদনের ছাপ্পা মারা চোখে দেখায় বিব্রত হচ্ছিনা, আর আনন্দ আমাদের বিবেককে করে দিচ্ছে অবশ।

ভারতের প্রায় প্রতিটি হিন্দি-বাংলা চ্যানেলে এ রকম একটি অনুষ্ঠান সারা বছর চলে । ইদানীং দেশি চ্যানেলগুলোও সেই ধারায় চলা শুরু করেছে । একটি চ্যানেলকিছুদিন আগে এ রকম একটি নাচের প্রতিযোগিতা চালায় এবং সম্প্রচারও করে । স্কুলভিত্তিক প্রতিযোগিতাও হয়। অনেক শিক্ষক মেনে নেন, অনেক অভিভাবকেরা খুশি হন। বলাবাহুল্য, নাচগুলো শিশুসুলত ছিল না। প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন নিয়ে প্রশ্ন থাক, শিশুদের ওপর তা চাপিয়ে তাদের মানসিক-দৃষণ কেন আমরা সইব ? এ উৎপাত প্রথম দেখা যায় মার্কিন মুলুকে । সেখান থেকে আসে ভারতে, এখন বাংলাদেশেও তা রমরমা । গল্পের হ্যামিলনের বাঁশি জাদুর বাঁশি বাজিয়ে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, আর আজ শিশুদের শৈশবিক কোমলতা চুরি হচ্ছে বড়দের বেহুশ বিনোদনের খায়েশে। আজকের হ্যামিলনের বশি বাজাচ্ছে জাদুর বাক্স টেলিভিশন । বোকা বাক্সটি এখন আর বোকা নেই।

এভাবে শিশুদের একাধারে ‘ক্ষুদে প্রাপ্তবয়স্ক’ বানানো হয়, অন্যদিকে তারা হয় ‘আনন্দের পুতুল’ । অমিতাভ বচ্চন অভিনীত পা ছবিতে ছোট্ট একটি শিশুর প্রোজোরিয়া নামের দুরারোগ্য রোগে  বুড়িয়ে যাওয়ার বেদনা ও জটিলতায় দর্শক কাঁদে।  আর এসব বিনোদনের ছলে ছোট মনে বড়র ভাব সংক্রমণের রোগটিকে কী বলব ? বললে ‘সেক্সুয়ালাইজেশন অব চাইল্ডহুড’ বা ‘শৈশবের যৌনকরণ’ই বলতে হয়। সংস্কৃতির ক্ষতি এক প্রজন্মে শেষ হয় না। বহু প্রজন্ম ধরে তার জের চলে।

ভারতে এর প্রতিবাদ হয়েছে। সেখানকার মানবাধিকার কমিশন ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের এ ধরনের প্রতিযোগিতায় না টানতে বলেছে। অস্ট্রেলীয় সরকার তাদের দেশে গণমাধ্যমে শিশুদের যৌনসামগ্রী করে তোলার বিরুদ্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তাতে বলা হয়, শিশুদের এমনভাবে দেখানো উচিত নয়, যাতে অন্য শিশুরা ভুল বোঝে বা এ ধরনের যৌনাত্মক আচরণকেই স্বাভাবিক ভাবতে শেখে । বয়স হওয়ার আগেই তাদের বোঝানো হয় কোনটা আকর্ষণীয়, কোনটা সেক্সি, নারী কী, পুরুষ কী, রোমান্টিকতা কী, প্রেম কী, দেহের আকর্ষণ কী। তারা ভাবে, এসবের গুণেই বুঝি জীবনে সুখ ও সফলতা আসবে । মনে রাখা দরকার, মানুষের ব্যক্তিত্ব, রুচি শৈশবেই গড়ে ওঠে। বাকি জীবনে তার ছাপ পড়ে। এসব মাধ্যমের মনোসাংস্কৃতিক কর্মসূচি আসলে কনজিউমারিস্ট ভোগী নাগরিক তৈরির প্রিএম্পটিভ কর্মসূচি; শিশুরা তার নিশানায় । আর শিশুদের দখল করা মানে আগামির সমাজকে প্রভাবিত করা। আজকের সামান্য বিনোদন ভবিষ্যতের মানুষকে অনেকভাবে বদলে দিতে পারে সেই হুঁশ আজ খুবই প্রয়োজন ।

অর্থ, খ্যাতি, সম্মান শিশুর প্রয়োজন নয়, তা বড়দের প্রয়োজন । শিশুরা তারই খোরাক । দেখার বিষয় হচ্ছে, যৌনায়িত কনজিউমারিজম শিশুদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কের অনুভূতি ও চাহিদা তৈরি করতে চায়, আবার তরুণ-যুবাদের মধ্যে দেখতে চায় শিশুসুলভ আদিখ্যেতা, একদিকে তীব্র আত্মপরতা অন্যদিকে জীবনজগৎ নিয়ে অসচেতনতা, প্লেফুলনেস, মজা আর ইলেকট্রনিক গেজেটের পুতুলবিলাস আর নিজেকে সাজাবার বালখিল্য। এরা যেন কোনো দিন বড় হবে না, অন্তত বিজ্ঞাপনের ভাষা তা-ই বলে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অনুষ্ঠান দেখার প্রভাবে অনেক শিশুর মধ্যে অল্প বয়সে যৌনতার বোধ জন্মায়। এসব শিশু সহজেই বিচ্যুত হয়, তাদের জীবন আর সহজ থাকে না। মা-বাবাদের এসব ভাবা উচিত, কারণ এসব নিয়ে তাদের উদাসীনতা কিংবা সম্মতির অধিকারটি বৈধ নয়। শিশুরা তাদের সম্পত্তি নয়, তারা সমাজেরও অংশ, ভবিষ্যতের পথিক। অর্থ, খ্যাতি, সম্মান শিশুর প্রয়োজন নয়, তা বড়দের প্রয়োজন । শিশুদের দরকার নির্মল আনন্দ, খেলাপ্রিয়তা ও জানার-মেশার উচ্ছ্বাস। তাদের বড় করে দিলে চলবে না, বড় হতে দিতে হবে।

ইন্ডিয়ান আইডল থেকে শুরু করে ছোটে ওস্তাদের  মতো রিয়েলিটি শোর নির্মাতারা চান প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ও আনন্দ-বেদনা টিভির সামনে বসা শিশু ও তাদেরঅভিভাবকরাও পাক। কিন্ত বিষয়টা অত সরল নয়। প্রতিযোগিতার নামে যে বিধবংসী জিগীষা তাদের মধ্যে জাগানো হয়, যে অনিশ্চয়তার চাপ তাদের স্নায়ুতে ফেলা হয় তাতে যে কারো মন-মস্তিষ্কে স্থায়ী প্রভাব পড়ে যেতে পারে। শিশুদের অভিভাবক ও দর্শকদের মনের ওপর প্রভাবও হিসাব করতে হবে। কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টির সামনে দাড়িয়ে পারফর্ম করায় বয়স্কদেরই ভিরমি খাবার জোগাড়, সেখানে শিশুদের জীবন-মরণ প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়ার মনস্তান্তিক প্রভাব বিপর্যয়কর । অনুষ্ঠান নির্মাতারা চান, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ও আনন্দ-বেদনার শামিল টিভির সামনে বসা শিশু ও তাদের অভিভাবকেরাও হোন । এর জন্য তাঁরা স্ক্রিপ্ট তৈরি করে বিচারকদের-উপস্থাপকদেরও খেলান। বিচারকেরা এমনভাবে শিশুদের অতি প্রশংসা বা চরম নিন্দা করেন, যাতে ছেলেমেয়েদের আবেগের চরম প্রকাশ ঘটে এবং দর্শক তা দেখতে পায়। আবার উপস্থাপকদের করা হয় তাদের কাছের লোক। এই দুইয়ের দোলাচল শিশুর মনটাকেও আশা-নিরাশার দোলায় পেন্ডুলামের মতো দোলায় । দোল বেড়ে গেলে তা প্রতিযোগীদের মনের ওপর চাপ ফেলে । পরাজিত শিশুর কান্নার ঢেউ তার বাবা-মাকেও ধসিয়ে দেয়। বিষয়টার মধ্যে তখন সত্যির রসায়ন আরও গাঢ় হয়। এটাই নাকি নির্মাতাদের সাফল্য ও জনপ্রিয়তার শর্ত। কিন্ত এ রকম মানসিক চাপে অনেকের মন ভেঙে যায়। কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টির সামনে বয়স্করাই ভিরমি খান। সেখানে শিশুদের এমন হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা আর স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করা বিচারের মনস্তাত্বিক প্রভাব বিপর্যয়কর ।

পশ্চিমবঙ্গের একটি চ্যানেলে ১৬ বছর বয়সী শিঞ্জিনী সেনগুপ্তকে বিচারকেরা কঠোর সমালোচনা করেন । কোটি দর্শকের চোখের সামনে শিঞ্জিনী অপমান গিলে প্রাণপণে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। তার হাসিখুশি মুখ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বেদনায় কুঁচকে যায়, চোখ দিয়ে অঝোরে ঝরতে থাকে অশ্রু। বাড়ি ফেরার পর তার রহস্যজনক পক্ষাঘাত হয়, কথা বলা ও নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। মা-বাবাকে চিনতেও ব্যর্থ হয়। অনেক চিকিৎসার পরও শিঞ্জিনীর মধ্যে ভয়ের লক্ষণ কাটেনি। একই রকম পরিস্থিতিতে মুম্বাইয়ের স্টুডিওতে এক কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এ রকম ঘটনা অজস্র । আলোর নিচের এই অন্ধকার আর নিষ্ঠুরতার কথা দর্শকেরা জানে না। তাঁরা  শুধু আনন্দ পেতে চান এবং ভুলিয়ে-ভালিয়ে তাদের সেটাই দেওয়া হয়। জাদুর বাক্স এভাবে বড়দের বানিয়ে ফেলে আনন্দপিপাসু অবোধ শিশু ।

এভাবে চলতে পারে না। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ নিমশহরের মৃদু মধ্যবিত্তদের কাছে এখন খ্যাতি ও অর্থ সমার্থক। তার জন্য শিশুদের ব্যবহার যে নৈতিকতায় বাধা হওয়ার কথা, পুরোনো সেই নৈতিকতা বিশ্বায়িত মার্কিন সংস্কৃতির তোড়ে ভেসে গেছে । দেশিই হোক আর বিদেশিই হোক আমাদের শিশুদের এসবের আছর থেকে বাঁচাতে হবে । সরকার, অভিভাবক সমাজ, মনন্তত্ববিদ সহ সবারই সরব হওয়া দরকার।  শিশুদের নৈতিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার সবার্থে মুদ্রনমাধ্যম ও দৃশ্যমাধ্যমে প্রচারিত যে কোন বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠানে শিশুদের উপস্থাপন বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা থাকতে হবে । সরকার শিশুনীতি নিয়ে কাজ করেছে। গণমাধ্যম নিয়েও নীতিমালা হচ্ছে। রাজনীতিতে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও এ বিষয়ে করা বলা নেই । আমরা অবিলম্বে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধিমালা চাই। তার তদারকি ও নজরদারির জন্য আলাদা সেলও করে দিতে হবে। শিশুবিশেষজ্ঞ, শিক্ষক মহল, মনন্তত্ববিদ ও অভিভাবকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব আছে । শিশুদের বিকাশ কোনভাবেই নিশ্চিত হবেনা, যদিনা বড়দের সমাজ ঠিক হয় ।

শিশু-কিশোরদের নৈতিক, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার স্বার্থে গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনে শিশুদের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং যৌনানুভূতি জাগানো উপস্থাপন বন্ধ করা সংস্কৃতির স্বার্থেও দরকার । রিমোট কন্ট্রোলার হাতে করে চ্যানেল পাল্টানোর স্বাধীনতায় ভুললে চলবে না। কারণ, টিভির রিমোট আপনার হাতে হলেও সংস্কৃতির রিমোট কন্ট্রোলার অন্যদের হাতে। তাতে শুধু নৈতিকতার লখিন্দরই ভেসে যাবে না, সংস্কৃতির বেহুলাও তার সঙ্গী হবে; তারা নাচবে ইন্দ্রের রাজসভায়।

ইতিহাসে স্বর্ণযুগ চিহিত থাকে, কিন্তু আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগের সূচনায় কোনো ঘণ্টা বাজে না। নীরবেই তা শুরু হয়ে যায়। এক চীনা জল্লাদের সাধনা ছিল, এমনভাবে মানুষের কল্লা কাটা, যাতে তারা টেরও না পায়। বছরের পর বছর তিনি সূক্ষভাবে মানুষের মাথা কাটার সাধনা চালিয়ে গেলেন এবং একদিন এত নিখুতভাবে একজনের মাথা কাটলেন যে হতভাগা লোকটি কিছু টের না পেয়ে প্রশ্ন করে, “কই, আপনি তো কিছু করছেন না।”  জল্লাদ মহাশয় সাধুপুরুষের মতো হেসে বললেন, “জনাব, মাথাটা একটু ঝাঁকান, টের পাবেন।” ঝাকুনি না খেলে আমরাও বুঝব না আমাদেরও মাথা মাথা বিনোদনের রেশমি সুতোর খাড়ায় কত সুকৌশলে কাটা পড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top