কবিদের প্রস্থান
হাসি মুখে প্রতিমা বিসর্জনের আনন্দ, মুক্তি পায় কালিমা ।
অন্তর্ঘাতে যদি গুড়িয়ে দেয়া যায় প্রিয় ফুলদানি,
তাতে নিজের ক্ষতি হলেও, মুক্তি পায় বিষাক্ত ফুল ।
যেখানে বুঝা না বুঝার ভান,মানবীর- চিরদিনের ;
সেখানে শ্রদ্ধার বাচনিক ভঙ্গি,অনেকটাই- পঙ্গু ।
‘বিভ্রান্তি, বলতে যা বুঝায় তা নয়,
একটা প্রধাণ ‘ভাবাবেগ,
শেষের কবিতার সুনিশ্চিত প্রস্থানের পূর্বাভাস যদি হয় ঠিক, তবে,
বিদায়ের শোক সুনিশ্চিত
বায়বীয়,
অষ্পষ্ট,
মৃদু সন্দ্ধ্যার মত ।
আজ, এক-দুই করে ফেলে আসা ছোট সন্ধ্যার অতীত,
তার দ্বায় ভার কম নয় ।
সুললিত ছন্দে গড়ে ওঠা
এক সম্পর্কের পটভূমিকায়
আমরা- এক প্রলম্বিত ছায়া,
চিরন্তন আকৃতি,
কোন কৃত্রিম উপাখ্যান নয় ।
****
নেহাত জন্মেছি বলে
তোমার বুকে নির্মাণ করেছি পৃথিবী,সংসার,জগৎকাল।
আমার প্রথম সন্তান এসেছে,
অভিমান করেছে-আবাসযোগ্য পৃথিবী পায়নি বলে।
তোমার ঠোঁটে চেপে ধরেছি ক্ষুধা,অম্লান তৃষ্না,বাসনা বাঁজায়
বাঁশি। আমার দ্বিতীয় সন্তান এসেছে,
অভিমান করেছে-খাদ্যপায়নি বলে।
তোমার চোখে তুলে ধরেছি চিত্ত,মনি-মাণিক্য,সমৃদ্ধির সমাহার।
আমার তৃতীয় সন্তান এসেছে,
অভিমান করেছে-বস্ত্র পায়নি বলে ।
তোমার কপালে লিখেছি জয়গান,শ্লোগান ভরাডুবি বহমান।
আমার চতুর্থ সন্তান এসেছে,
অভিমান করেছে-বাসস্থান পায়নি বলে ।
তোমার মাঝে বেড়ে উঠেছি আমি,আমার পৃথিবী আমার পঞ্চম সন্তান।
আমার শত শত সন্তান জন্মেছে,
অভিমান করেছে-
পৃথিবী তাদের মুক্তি দিতে পারেনি বলে।।
লাল গোলাপের অবরোধ ভেঙ্গে
জীবনের কায়া ভাষ্য যখন খুব যত্ন করে
বেড়ে ওঠে,যখন আঘাতের প্রত্যাশারা
বিলীন হয়ে যায় মহাভারতের প্রান্তে,
বেঁচে থাকে মহান মিথ্যা-মানুষের মুখে ।
অসহায় মানুষ তখন ভালবাসার
ঘরে বন্দী ।
***
লাল গোলাপের অবরোধ ভেঙ্গে
তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছি, চোখের
কাজলে লিখেছি জীবনের গল্প, নিয়ন্ত্রণ
হারিয়ে চুমু খেয়েছি কপালে ।
কেঁদে যায়,কেঁদে যায়……
এখনো ঘুম ভাঙ্গেনি।মেঘলা আকাশে
ছায়া পড়েনি তোমার,ওঠেনি আমার
প্রেমের পতাকা।পায়নি তোমার চুলের
গন্দ্ধ । কেঁদে যায়,কেঁদে যায়….
***
কোন প্রশ্ন নয়, শুধু নির্ভেজাল উত্তর নিয়ে
প্রাতঃসন্ধ্যার একরাশ ব্যার্থতার বোঝা কাঁধে নিয়ে
ফিরেছি ঘরে।
কোন প্রশ্ন নয়, শুধু নির্ভেজাল উত্তর নিয়ে-
যারা পৃথিবীতে সন্তান জন্ম দেয়,
তাদের জিজ্ঞাসার কাছে।
মানবীর দেয়া সেই লাল গোলাপটিকে আমি রক্ষা করতে পারিনি-
যাকে আগলে রেখেছিলাম আমার বুক পকেটে,
সেনাবাহিনীর ব্যাচ্ এর মতো।
দুঃস্বপ্নের উকি ভাবিয়ে ভাবিয়ে ভীত করে তুলেছে আমায়।
ভুলে গেছি স্বপ্ন দেখতে।
বাগানের মালী আজ আর আমার ফুলের গোড়ায় পানি দেয়নি,
কাজলা দিদির গান বাজেনা ঘুমের ঘরে।
হারিয়ে গেছে আমার কবিতার শব্দ, ছন্দ আর ধূসর বর্ণমালা
ঠিক গত শত বছরে।
বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝে আজ,
শুধু বেচে আছি-
“কেউ আসবে বলে”
